রমজান মাসে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য কীভাবে ভালো রাখা যায়?

 রমজান মাসে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য কীভাবে ভালো রাখা যায়?


Any Help24


শারীরিক স্বাস্থ্য


আপনার প্রতিদিনের গ্রহন করা খাদ্য স্বাস্থ্যসম্মত হচ্ছে কি না বা আপনার দেহের ক্ষয় পূরণের জন্য পর্যাপ্ত কি না; নিশ্চিত হওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় একটি সুষম খাদ্যের তালিকা তৈরি করা এবং সে তালিকা অনুযায়ী প্রতিদিন খাবার গ্রহন করা। তাই এখনো যারা রমজানের খাদ্য তালিকা তৈরি করবো বলেও তৈরি করেন নি; আশা করা যায় এ লেখা কিছুটা হলেও তাদের সাহায্য করবে। আর যারা ইতিমধ্যে তৈরি করে ফেলেছেন, তারা চাইলে একটু মিলিয়ে দেখতে পারেন।



খাদ্য তালিকায় যা রাখতে পারেন : 


প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই লিটার পানি পান করা উচিত। যা এ রমজানের মধ্যে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টাতে পান করা প্রয়োজন। উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার বেশী পরিমানে গ্রহণ করা ভালো। কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খাদ্য তালিকা থেকে একেবারে বাদ না দিয়ে প্রতিদিন স্বল্প পরিমাণে গ্রহণ করা দরকার। এ সময় বেশী বেশী পটাসিয়ামযুক্ত খাবার গ্রহণ দেহের জন্য অপরিহার্য।


আরো পড়ুনঃতরমুজ বীজ খাওয়া যাবে না যাবে না?


বাজার এখন নানান মৌসুমী ফলে ভরপুর। যত বেশী সম্ভব আমরা ফল খেতে পারি। ফল একদিকে শরীরের পানির চাহিদা মেটাবে, অন্যদিকে এর প্রয়োজনীয় অনেক পুষ্টিগুনও রয়েছে। দুধে অ্যালার্জি বা হজমের সমস্যা না হলে প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে পান করা যেতে পারে। দুধ স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাধিক উপকারী। ফাইবার বা আঁশ জাতীয় খাবার যেমন ইসবগুল, তকমা, সালাদ এ সময়টাতে বেশি বেশি গ্রহণ করা দরকার।



যে খাদ্য বা অভ্যাসসমূহ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে : 


ভাজাপোড়া খাবার সম্পূর্ন ভাবে বর্জন করাই শ্রেয়। এ সময়টাতে বা যে কোনো সময়ে বাইরের কেনা খাবার না খাওয়াই স্বাস্থ্যসম্মত। ইফতার, রাতের খাবার বা সেহেরী সাধারণ সময়ের চেয়ে বেশি খেয়ে হাসফাস না করে, স্বাভাবিক পরিমাণে খাওয়াটাই উত্তম। কোল্ড ড্রিংকস, প্যাকেটজাত জুসের পরিবর্তে বাড়িতে তৈরি তাজা ফলের শরবত খাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ফাস্টফুড সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়া ভালো।


এ সময়টাতে চা, কফি না খাওয়াই ভালো। তবে একান্তই খেলে তা ইফতার এবং রাতের খাবারের মাঝে খেতে হবে, কেননা চা, কফি শরীর থেকে পানি বের করে দিয়ে পানি শূন্যতা তৈরি করে। তবে যাদের শারীরিক কোনো সমস্যা বা অন্য কোনো কারনে ডাক্তারের সান্নিধ্যে থাকতে হয়, তাদের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চলা উত্তম। যে সকল গর্ভবতী মায়েরা আছেন, তারা সুস্থ অবস্থায় থাকলে সুষম খাদ্য ও প্রচুর পরিমানে পানি পান করে সহজেই রোজা রাখতে পারেন। তবে কোনো মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে অবশ্যই আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া দরকার।


আরো পুড়ুনঃরমজানে বিটরুট জুস কেন খাবেন


যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত আছেন তাদের না খেয়ে বা অল্প খেয়ে রোজা রাখতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু অবশ্যই ডায়াবেটিক ফুড খাবেন। বিশেষ করে সেহেরীতে চাইলে পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণ করতে পারেন, কিন্তু অবশ্যই তা ডায়াবেটিস ফুড হতে হবে। 



ইফতার : 

সারাদিন সিয়াম সাধনার পর প্রথম খাওয়া হয় ইফতারে। যেহেতু সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরের গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়, তাই ইফতার শুরু করা দরকার হজমযোগ্য শর্করা জাতীয় খাবার দিয়ে। চাইলে ইফতারকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়। প্রথমে একদম হালকা খাবার খেয়ে নামাজের পর তুলনামূলক ভারী খাবার।



সে ক্ষেত্রে শুরুতে খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করে তরল হিসেবে লেবু পানি, ডাবের পানি, লাচ্ছি, গুড়ের শরবত, ঘরের তৈরি ফলের জুস, ইসবগুল বা তোকমার শরবত, রুহ আফজা, ভেজিটেবল বা চিকেন স্যুপ ইত্যাদি রাখা যেতে পারে। ভিটামিনের ও মিনারেলযুক্ত খাবার হিসেবে ফলমূল ও সবজি বা এগুলো দিয়ে তৈরি খাবার।



কার্বোহাইড্রেট হিসেবে ভাত, রুটি, নুডলস, আলুর চপ, খিচুড়ি, চিড়া, সাগু, মুড়ি ইত্যাদি। প্রোটিন চাহিদা পূরন করতে সিদ্ধ ছোলা খুব উপকারী। এছাড়াও দুধ, দই, ডিম, মুরগির মাংস ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। তবে এ খাদ্যসমূহ ইচ্ছামত না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খেতে পারেন এবং অনেক বেশি পানি পান করা প্রয়োজন।




রাতের খাবার : 

রাতের খাবার অনেকে খায় আবার অনেকে খায় না যারা খাবে হতে পারে একদমই হালকা। পরিমিত ভাত বা রুটি, সাথে পর্যাপ্ত সতেজ সালাদ, এক টুকরো মাছ বা মাংস এবং সবজি। আবার চাইলে দুধ, ভাত-কলাও খেতে পারেন। তবে অবশ্যই দেহের চাহিদা অনুপাতে। 


সেহেরী : 

সারাদিনের মধ্যে তুলনামূলক ভারী খাবার এসময় গ্রহণ করা শ্রেয়। তবে তা শরীরের চাহিদা বুঝে। আর অবশ্যই ঘরের তৈরি এমন খাবার যা হজমের কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না এবং পানির তৃষ্ণা তৈরি করবে না। সেহেরীতেও সুসিদ্ধ, হজমে সহায়ক খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি করে এমন খাবার এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে পানি পানে।


ইফতারের পর থেকে প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে, যেন কোনো ভাবেই দেহে পানিশূন্যতা দেখা না দেয়। 


এসব সচেতনতার পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যার জন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে অনেক সমস্যারই সমাধান সুন্দরভাবে করা সম্ভব। কারণ মনে রাখতে হবে সুস্থতাই জীবন। শৃঙ্খল জীবনযাপনই সুস্থতার মুলভিত্তি। আর শৃঙ্খলার জন্যই রোজা এবং রোজাই আল্লাহর সন্তুষ্টির অন্যতম মাধ্যম।আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে সুস্থ অবস্থায় রোজা রাখার তৌফিক দান করুন, আমিন।



মানসিক স্বাস্থ্য


এছাড়া নিজেকে ভালো রাখার জন্য যা যা করতে পারেন- 


👉বাবা-মা-সন্তানদের সাথে আরো বেশি সময় কাটাতে পারেন এবং পরিবারের বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলাপ-আলোচনা করতে পারেন।

👉পরিবারের সকলে মিলে কোনো নাটক বা সিনেমা দেখতে পারেন।  

👉 যেকোনো শখ যেমন পড়া-লেখা কিংবা আঁকা-আঁকিতে ব্যস্ত থাকতে পারেন। 

👉 জুম বা অন্য যেকোনো ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ দিয়ে ওয়াচ পার্টির আয়োজন করতে পারেন।

👉বাসার ভেতরে কিছু খেলাধুলা করতে পারেন। 

👉 হালকা ব্যায়াম করতে পারেন। 

👉অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে পারেন।

👉ইফতার ও নামাজের প্রস্তুতিতে অংশ নিতে পারেন। 

👉ভার্চুয়াল ইফতারের আয়োজন করতে পারেন। 

👉 ঘরে এক সাথে জামাতে নামাজ আদায় করতে পারেন।



শীতের সময় কলা খাবো নাকি খাবো না ? কলার উপকারিতা।

পাইলস হওয়ার কারণ লক্ষণ ও উপসর্গ সমূহ এবং চিকিৎসা।

সর্দি কাশি ও ইনফ্লুয়েঞ্জা(Common cold and influenza)

ডেঙ্গুজ্বর কী ? প্রকার,লক্ষণ, এবংচিকিৎসা।

ম্যালেরিয়া কী ? প্রকারভেদ,লক্ষণ, এবং চিকিৎসা।

সাইনোসাইটিস কী?লক্ষণ,করণীয় এবং চিকিৎসা।

নিউমোনিয়া কী?লক্ষণ এবং চিকিৎসা।

চিকনগুনিয়া কি?লক্ষণ,কিভাবে ছড়ায়,প্রতিরোধিএবং চিকিৎসা।

শীর্ষ ১০ ধরনের ক্যানসারের আক্রমন হয় বাংলাদেশে।

হুপিং কাশি/ Pertussis কী,লক্ষণ,জটিলতা, এবং চিকিৎসা।

মাম্প্‌স কী,লক্ষণ / উপসর্গ,মাম্প্স হলে কী কী করণীয়/ ( হোম রেমেডি) এবং চিকিৎসা।

Tonsillitis/টনসিলাইটিস কি? কারণ, লক্ষণ,কী খাওয়া যাবে/যাবে না এবং চিকিৎসা।

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) টিকার চতুর্থ ডোজ এবং করোনা মহামারির আতঙ্ক কমে গেলেও সংক্রমণ থেমে নেই।

নতুন পোলিও টিকা (এনওপিভি২)

টাইফয়েড জ্বর 

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খাওয়ার পর যে কাজগুলো করবেন না ?

দুধ -আনারস একসাথে খেলে কি মানুষ মারা যায় ? জেনেনিন এর সঠিক উত্তর 

পিরিয়ড চলাকালিন মেয়েরা যেসব কাজ থেকে বিরত থাকবেন 

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষতি কী  এবং জেনে নিন ঘুম না হলে কী করবেন ?

রাতকানা রোগ কী ? রাতকানা রোগ কেন হয় ? এবং এর প্রতিকার 

রক্তস্বল্পতা কি ? এর কারণ , লক্ষণচিহ্নচিকিৎসা এবং উপদেশ ?

কান পাকা রোগ কেন হয় এর কারণ,লক্ষণ,চিহ্ন এবং চিকিৎসা

কনজাংটিভাইটিস বা ( চোখ উঠা ) কি ? এর কারণ , লক্ষণ/চিহ্ন , চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ 

 

NOTE: সকল ঔষধ রেজিষ্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করুন