ঈদুল ফিতর অর্থ,নামাজের নিয়ত,গুরুত্ব,ইতিহাস,এবং নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম!
👪 ঈদুল ফিতর অর্থঃ-
👉ঈদুল ফিতর ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দুটো সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের একটি। দ্বিতীয়টি হলো ঈদুল আযহা। ধর্মীয় পরিভাষায় একে ইয়াওমুল জায়েজ [অর্থ: পুরস্কারের দিবস] হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে।
👉 ঈদের নামাজ কি ওয়াজিবঃ-
👉হানাফী মাযহাব অনুসারে ঈদের নামাজ ওয়াজিব মালিকি ও শাফেয়ী মাযহাব অনুসারে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ এবং হাম্ববলী মাযহাব অনুসারে ঈদের নামাজ ফরজ। কোনো কোনো ইসলামী পণ্ডিতের মতে ঈদের নামাজ ফরজে আইন ও কিছু কিছু ইসলামী পণ্ডিতের মতে ঈদের নামাজ ফরজে কেফায়া। কিন্তু কোনো ইসলামী পণ্ডিতের মতে ঈদের দুই রাকায়াত নামাজ নফল।
👉 ঈদের নামাজ কয় রাকাতঃ-
👉ঈদের দুই রাকাত নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয় না। এতে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির রয়েছে। ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবিরের সঙ্গে আদায় করছি।
👉 ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত বাংলাঃ-
👉ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবিরের সাথে আদায় করতেছি।
👉 ঈদের নামাজের নিয়ত আরবিঃ-
👉 ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত বাংলা উচ্চারনঃ-
👉নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা রাকয়াতা সালাতি ঈদিল ফিতর মায়া ছিত্তাতি তাকবীরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তায়ালা ইকতাদাইতু বিহাযাল ইমাম, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।
👉 ইসলাম ধর্মে কখন চালু হয়েছিল ঈদঃ-
👉ইসলামের ইতিহাস বিষয়ক চিন্তাবিদ এবং বিশেষজ্ঞদের মতে জানা গেছে যে ৬২৩ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বার ঈদ উদযাপন করা হয়েছিল।
👉ঈদের দিনে করণীয়ঃ-
👉ঈদের দিন ভোরে ফজর নামাজ জামাতে আদায় করার মাধ্যমে দিনটি শুরু করতে হবে। সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যদি তারা এশা ও ফজর নামাজের মধ্যে কী রয়েছে তা যদি তাহারা জানতে পারত তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলে এই দু’টি নামাজের জামাতে শামিল হতো। সহিহ বোখারি ও মুসলিম
আশা করি আমাদের প্রত্যেকটি পোষ্ট আপনাদের ভালোলাগবে এবং উপকারে আসবে ।
আরো পড়ুন
👉 ঈদুল ফিতরের গুরুত্বঃ-
👉ঈদুল ফিতর ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাঃ) দ্বারা শুরু করা একটি উৎসব ছিল । এটি এমন একটি সময় যখন পরিবারগুলি নতুন জামাকাপড় পরে এবং একত্রিত হতে এবং একসাথে মানসম্পন্ন সময় কাটাতে জড়ো হয়। বাবা-মা বা দাদা-দাদি বাচ্চাদের কাছে টাকা-পয়সার মতো উপহার দেওয়ার প্রবণতা রাখেন
👉 ঈদুল ফিতরের ইতিহাসঃ-
👉আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত রয়েছে যে ’হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যখন মদিনায় পৌঁছেছিলেন তখন তিনি দেখতে পান যে লোকেরা ২টি নির্দিষ্ট দিন উদযাপন করছে। যেই খানে তারা অনেক আনন্দের সাথে নিজেদের আপ্যায়ন করেছেন। এতে ’হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মন্তব্য করেন যে আল্লাহ রব্বুল আলামীন উৎসবের জন্য দুটি দিন নির্ধারণ করেছেন। একটি হলো ঈদুল ফিতর এবং অপরটি ঈদুল আজহা।
👉 ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের নির্দিষ্ট কিছু নিয়মঃ-
👉নিয়ত করে আল্লাহু আকবার বলে হাত তুলে তাহরিমা বাঁধতে হবে। এরপর ছানা পড়েন মুসল্লিরা- সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়াতাআলা যাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।
👉এরপর তিনবার আল্লাহু আকবার উচ্চারণ করে তাকবির বলতে হয়। প্রথম দুই বার কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু তৃতীয়বার বলে হাত বেঁধে নেন সবাই। প্রতিটি তাকবিরের পর তিনবার সুবহানাল্লাহ বলা যায় এই সময়টুকু থেমে থাকতে হয়।
👉তারপর আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ে সূরা ফাতেহার পর একটি সূরা যুক্ত করেন ইমাম। এরপর স্বাভাবিক নামাজের মতোই রুকু ও সিজদা করে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াতে হয়। এবার বিসমিল্লাহ বলার পর সূরা ফাতেহা পড়ে আরেকটি সূরা মেলানো হবে। তারপর তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলার মাধ্যমে তিনটি তাকবির সম্পন্ন করতে হয়। এ সময় প্রতিটি তাকবিরের পর হাত ছেড়ে দিতে হবে এবং চতুর্থবার আল্লাহু আকবার বলে হাত না বেঁধে রুকুতে চলে যাওয়া নিয়ম। এরপর সেজদা ও আখেরি বৈঠকের পর সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ হয়।
👉ঈদুল ফিতরের ২ রাকাত নামাজ শেষ করার পরে ইমাম সাহেব মিম্বারে উঠে ২ টি খুতবা দিবেন। ঈদের খুতবা শোনা ওয়াজিব। খুতবা শেষ না হওয়া পযন্ত সবাই মসজিদ থেকে বাহির হবে না।
👉 ঈদের দিনে করণীয়ঃ-
💦 ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা
💦 পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন ও সুগন্ধি ব্যবহার করা
💦 হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া
💦 এক পথে গিয়ে অন্য পথে আসা
💦 তাকবির দেওয়া
💦 ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা
💦 ঈদের নামাজের আগে খাবার গ্রহণ
💦 ঈদের নামাজ আদায় ও খুতবা শোনা
💦 ফিতরা আদায় করা