জ্বর/Fever
জ্বর কি?
শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে তাকে জ্বর বলে। আসলে জ্বর কোন রোগ না অন্য রোগের উপসর্গ মাত্র। শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭.০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড(৯৯.৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। যখন শরীরে তাপমাত্রা ৩৭.৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (৯৯.৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর চেয়ে বেশি হয় তখন বুঝতে হবে জ্বর হয়েছে।
স্কুলে যাওয়ার বয়স হয়নি এমন শিশুদের তাপমাত্রা ৩৮.০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বা (১০০.৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর বেশি হয় তাহলে বুঝতে হবে সে খুব বেশি অসুস্থ।কোন লোক রোগ জীবাণুর দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন জ্বর হয়। রোগ জীবাণু বাতাসে,মাটিতে,পানিতে বা সংক্রমিত প্রাণী ও মানুষের দেহে থাকে।
জীবাণু গুলো শরীরের অভ্যন্তরে কি ভাবে প্রবেশ করেঃ-
১. বায়ুর মাধ্যেমে যা আমরা প্রতিনিয়ত শ্বাস গ্রহণের সময় নিয়ে থাকি।
২. দূষিত খাদ্য ও পানীয়র মাধ্যমে।
৩. ত্বকের ক্ষত, মশা ও অন্যান্য কীটপতঙ্গ বা কুকুরের কামড়ের মাধ্যমে।
৪. সংক্রমিত পুরুষ ও মহিরার সাথে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে।
৫. রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে।
জীবাণুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়ঃ-
১. নিরাপদ ও টাটকা খাবার খেতে হবে।
২. বিশুদ্ধ ও ফুটানো পানি পান করতে হবে।
৩. খাওয়ার আগে ও পরে সাবান পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে।
৪. মলত্যাগের পর সাবান পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে।
৫. সংক্রামক ব্যধিতে আক্রান্ত লোকের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।
৬. যৌন রোগ থাকতে পারে এমন লোকের সাথে যৌন সম্পর্ক করা হতে বিরত থাকতে হবে।
৭. বাড়ীর চতুর্দিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
৮. সাধারণ সংক্রামক ব্যাধির টিকা নিতে হবে।
রোগীর জ্বর হলে কী কী করা উচিতঃ-
কারো জ্বর আছে মনে হলে তার শরীরের তাপমাত্রা মাপুন। তাপমাত্রা যদি ৩৭.৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (৯৯.৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর বেশি হয় তাহলে জিজ্ঞেস করতে হবে কখন জ্বর এসেছে। রোগীর ২৪ ঘন্টার কম সময় যাবৎ জ্বর আছে কিন্তু অন্য কোন উপসর্গ নেই।
১. রোগীর জ্বর বেশি হলে পরিবারের সদস্যদের দেখিয়ে দিন কিভাবে ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর মুছে দিলে জ্বর নেমে যাবে। এত রোগী ভালো বোধ করবে।
২. জিজ্ঞেস করুন তিনি এমন এলাকায় গিয়েছেন কিনা যেখানে ম্যালেরিয়া আছে। যদি গিয়ে থাকেন তাহলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করতে হবে। ম্যালেরিয়া চিকিৎসারি জন্য সচরাচর ক্লোরোকুইন দেয়া হয় অনেক ক্ষেত্রে ক্লোরোকুইন উপযোগী নাও হতে পারে।
৩. আপনার এলাকায় যদি ম্যালেরিয়া না থাকে তাহলে রোগীকে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট/ সিরাপ দিন। রোগী প্যারাসিটামল ট্যাবলেট রাতে ঘুমানোর আগে একটি ও সকালে একটি খেতে বলুন। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অবশ্যই সিরাপ দিতে হবে।
৪. রোগীর শুয়ে থাকা উচিত এবং প্রচুর গরম মিষ্টি পানীয়(চা,পানি,দুধ) পান করা উচিত। বেশি ঘাম হলে কিছুটা লবণ পানি পান করা উচিত।
ওজন কমাতে সাহায্য করবে এমন ৮টি অভ্যাস
৫. প্যাররাসিটামল খাওয়ার দুই দিনের মধ্যে যদি রোগী সুস্থ্যবোধ না করে তাহলে তাকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা হাসপাতালে যাবার পরামর্শ দিতে হবে। রোগীর জ্বর ৩ দিনের বেশি আছে অন্য কোন উপসর্গ থাকলে দেরী না করে তার উচিত ডাক্তার বা হাসপাতালে যাওয়া।
৬. রোগীর জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ আছে তাহলে তাৎক্ষণিক রোগীকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিতে হবে।
যেমনঃ-
# ঘাড় শক্ত হয়ে যায়।
# প্রচন্ড শরীর ব্যথা।
# অজ্ঞান হয়ে গেলে।
# চোখের রং হলুদ হলে।
# মারাত্মক ডায়রিয়া দেখা দিলে।
# খিঁচুনি।
মনে রাখবেনঃ
জ্বরের রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি বা তরল খাওয়ানো উচিত। কারণ, ঘামের সঙ্গে রোগীর শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়।
আরো পড়ুনঃ চিকুনগুনিয়া কি?
জ্বর সংক্রান্ত প্রচলিত কিছু ভুল ধারণাঃ-
আমাদের দেশে জ্বর হলে বিশেষ ধরণের পথ্য দেওয়ার নিয়ম আছে যেমনঃ- রোগীকে সাগু-বার্লি খেতে দেয়া হয়। এটি অত্যন্ত ভুল ধারণা। জ্বর হলে রোগীকে স্বাভাবিক খাবার ও সাথে পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া উচিত।
আরেক টি রেওয়াজ হচ্ছেঃ জ্বরে রোগীকে কাথা, কম্বল, লেপ দিয়ে ঢেকে রাথা। এর ফলে রোগীর জ্বর ভালো হতে দেরী হয়। বরং এক্ষেত্রে রোগীর কাথা, কম্বল, লেপ সরিয়ে খোলামেলা বাতাস পূর্ণ জায়গায় রাখা উচিত।
চিকিৎসা
অতিরিক্ত মাত্রায় জ্বর ও ব্যথা হলে প্যারাসিটামল গ্রুপের ঔষধ দেওয়া যেতে পারে।
Paracetamol
দৈনিক ১ টি করে ৩ বার। (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী)
তাছাড়া যদি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হয় অবশ্যই এন্টিবায়োটিক দ্বারা চিকিৎসা করতে হবে।
যেমনঃ-
Co-trimoxazole গ্রুপের ঔষধ
দৈনিক ১ টি করে ২ বার..............৫/৭ দিন।
অথবা,
Amoxicillin গ্রুপের ঔষধ
দৈনিক ১ টি করে ৮ ঘন্টা পর পর..............৫/৭ দিন।
অথবা,
Ciprofloxacin গ্রুপের ঔষধ
দৈনিক ১ টি করে ১২ ঘন্টা পর পর..............৫/৭ দিন।
অথবা,
Azithromycin গ্রুপের ঔষধ
দৈনিক ১ টি করে ২৪ ঘন্টা পর পর..............৫/৭ দিন।
সাথে একটি গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ দিতে হবে।
যেমনঃ-
Omeprazole 20mg/40mg গ্রুপের ঔষধ
দৈনিক ১ টি করে ১২ ঘন্টা পর পর। (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী)
অথবা,
Esomeprazole 20mg/40mg গ্রুপের ঔষধ
দৈনিক ১ টি করে ১২ ঘন্টা পর পর। (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী)
অথবা,
Pantoprazole 20mg/40mg গ্রুপের ঔষধ
দৈনিক ১ টি করে ১২ ঘন্টা পর পর। (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী).
জ্বর ও সাথে খিচুনি-
জ্বরের সাথে খিঁচুনি দেখা দিলে অনেকে মনে করে খারাপ বাতাস লেগেছে বা জিন-ভূতের আছর পরেছে বলে মনে করেন। জ্বরের সময় ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর মুছে দিলে মনে করা হয় রোগীর ঠান্ডা বা সর্দি বেড়ে যাবে।
৩ মাস থেকে ৪ বছর বয়সী পর্যন্ত শিশুদের জ্বর যদি ১০২.৫০ ফারেনহাইট বা ৩৮.৮০সেন্টিগ্রেড এর বেশি হয় তবে অতি জ্বর জনিত কারণে খিঁচুনি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণত টনসিলের প্রদাহ জনিত কারণে খিঁচুনি বেশি হয়ে থাকে। টিকা নেওয়ার পরেও খিঁচুনি হতে পারে। এইসব খিঁচুনি সাধারণত ১৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় না।
আশা করি আমাদের প্রত্যেকটি পোষ্ট আপনাদের ভালোলাগবে এবং উপকারে আসবে ।
ওজন কমাতে সাহায্য করবে এমন ৮টি অভ্যাস
মুখের কালো দাগ / মেজতার দাগ দূর করার সহজ উপায়।
হিট স্ট্রোক- কি ?এর কারণ, লক্ষণ ও এর প্রাথমিক চিকিৎসা ।
মুখের দূর্গন্ধ দূর করার ঘরোয়া উপায়
স্তন্য ক্যান্সার কি? কাদের হয়,লক্ষণ,কারণ এবং প্রতিকার।
মাইগ্রেন/Migraine কি? কারন,লক্ষণ/উপসর্গ এবং চিকিৎসা।
ডেঙ্গুজ্বর কী ? প্রকার,লক্ষণ, এবংচিকিৎসা।
ম্যালেরিয়া কী ? প্রকারভেদ,লক্ষণ, এবং চিকিৎসা।
সাইনোসাইটিস কী?লক্ষণ,করণীয় এবং চিকিৎসা।
নিউমোনিয়া কী?লক্ষণ এবং চিকিৎসা।
চিকনগুনিয়া কি?লক্ষণ,কিভাবে ছড়ায়,প্রতিরোধিএবং চিকিৎসা।
শীর্ষ ১০ ধরনের ক্যানসারের আক্রমন হয় বাংলাদেশে।
হুপিং কাশি/ Pertussis কী,লক্ষণ,জটিলতা, এবং চিকিৎসা।
মাম্প্স কী,লক্ষণ / উপসর্গ,মাম্প্স হলে কী কী করণীয়/ ( হোম রেমেডি) এবং চিকিৎসা।
Tonsillitis/টনসিলাইটিস কি? কারণ, লক্ষণ,কী খাওয়া যাবে/যাবে না এবং চিকিৎসা।
করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) টিকার চতুর্থ ডোজ এবং করোনা মহামারির আতঙ্ক কমে গেলেও সংক্রমণ থেমে নেই।
স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খাওয়ার পর যে কাজগুলো করবেন না ?
দুধ -আনারস একসাথে খেলে কি মানুষ মারা যায় ? জেনেনিন এর সঠিক উত্তর ।
পিরিয়ড চলাকালিন মেয়েরা যেসব কাজ থেকে বিরত থাকবেন ।
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষতি কী । এবং জেনে নিন ঘুম না হলে কী করবেন ?
রাতকানা রোগ কী ? রাতকানা রোগ কেন হয় ? এবং এর প্রতিকার ।
রক্তস্বল্পতা কি ? এর কারণ , লক্ষণ, চিহ্ন, চিকিৎসা এবং উপদেশ ?
কান পাকা রোগ কেন হয় এর কারণ,লক্ষণ,চিহ্ন এবং চিকিৎসা
কনজাংটিভাইটিস বা ( চোখ উঠা ) কি ? এর কারণ , লক্ষণ/চিহ্ন , চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ ।
NOTE: সকল ঔষধ রেজিষ্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করুন ।